হাতির হানায় ত্রস্ত বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম: বাড়ি-দোকান ভাঙচুর, নিখোঁজ এক গ্রামবাসী
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রাম ও
ঝাড়গ্রামের বড় চাঁদবিলা এলাকা।
🌙 ঘটনার সময়:
গতকাল রাত, আনুমানিক রাত তিনটে। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ে দলছুট দুটি হাতি।
🏚️ বাঁকুড়ায় তাণ্ডব:
-
গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জের অন্তর্গত শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে
-
কলগোড়া বাজারে আস্তিক মুখার্জির গুমটি দোকান ভাঙচুর
-
গদরি বাউরির বাড়ির একাংশ ধসে পড়ে
-
প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে হাতির তাণ্ডব
-
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানালেন, হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘর ছেড়ে বেরোতেই পারেননি
-
প্রাণে বাঁচলেও, ভয় এখনও কাটেনি
🐘 হাতির উপস্থিতি কোথায় কোথায়?
-
গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জ: ৩টি হাতি
-
কাল্লাপুর: ২টি
-
লটিয়াবনী: ১টি
-
এইসব হাতিরাই খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা
😨 গ্রামবাসীদের বক্তব্য:
"রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি,
জানিনা কখন কোথা থেকে হাতি এসে সর্বনাশ করে যাবে।
আমরা খুব আতঙ্কে আছি।"
🌲 বন দফতরের আশ্বাস:
-
যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা আবেদন করলে
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন -
পাত্রসায়ের বন দফতরও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে
⚠️ এদিকে, ঝাড়গ্রামেও আতঙ্ক ছড়াল:
-
বড় চাঁদবিলা গ্রামে প্রায় ২৫টি হাতির দল
-
রাতভর চলে তাণ্ডব
-
বিঘের পর বিঘে জমির ধান নষ্ট
-
গৃহস্থালি সামগ্রী চূর্ণবিচূর্ণ
-
মুখোমুখি সংঘাতে পড়েন গ্রামের বাসিন্দা পরীক্ষিত মাহাতো
🆘 নিখোঁজ এক ব্যক্তি:
-
পরীক্ষিত মাহাতো হাতির পাল দেখে পালাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন
-
এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ
-
পরদিন সকাল থেকে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি
-
পুকুরে নামেন গ্রামবাসীরাই, প্রশাসনের দেখা মেলেনি
📣 গ্রামবাসীদের অভিযোগ:
"হাতির পাল আসছে বলে বারবার বন দফতরকে ফোন করেও সাহায্য মেলেনি।
নিজেদের মতো করেই খোঁজ করেছি, এখনও পরীক্ষিত মাহাতোর কোনও খোঁজ নেই।"
🔎 সার্বিক চিত্র:
-
গ্রামের পর গ্রাম আতঙ্কে
-
নষ্ট হচ্ছে কৃষিকাজ
-
ভাঙছে ঘরবাড়ি ও দোকান
-
বন দফতরের প্রতিক্রিয়া ধীর এবং সীমিত
📢 চাহিদা:
-
দ্রুত হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা
-
ক্ষতিপূরণ যেন কেবল আশ্বাস না হয়, বাস্তবে কার্যকর হয়
-
গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সক্রিয়তা বাড়ানো
📌 উপসংহার:
প্রাকৃতিক প্রাণীদের সঙ্গে সহাবস্থান জরুরি, কিন্তু মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের গ্রামবাসীরা আজ চায় একটাই জবাব—
আর কতদিন চলবে এই আতঙ্কের রাত?
%20(1).png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন